স্লিপড ক্যাপিটাল ফিমোরাল এপিফাইসিস (SCFE):







Dr. Quazi Shahid-ul Alam

স্লিপড ক্যাপিটাল ফিমোরাল এপিফাইসিস (SCFE) হিপ জয়েন্টের রোগ। ১১-১৩ বছরের মেয়ে এবং ১২-১৪ বছরের ছেলে এবং একটু স্থূলকায়, এমন শিশুরা সবচে ঝুকিপূর্ণ ।প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় হলে এই রোগের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সফল ভাবে চিকিৎসা করা যায় ।

হিপ জয়েন্ট একটি বল ও সকেট এর মাধ্যমে তৈরি। বলটি সকেটের ভিতরে অবস্থান করে এবং সকল দিকে ঘুরতে পারে যা আমাদের চলাচলে সাহায্য করে। বাচ্চাদের যাদের বয়স এখনো ১৬ বা ১৮ বছর হয়নি তাদের বল অংশের ভিতরে একটি গ্রোথ প্লেট রয়েছে। এই গ্রোথ প্লেট কে বলা হয় ফাইসিস যার কাজ হাড়কে লম্বা করা এবং বাড়তে দেওয়া। এটি কার্টিলেজ বা তরুনাস্থি দ্বারা তৈরি এবং হাড়ের থেকে দুর্বল। স্লিপড ক্যাপিটাল ফিমোরাল এপিফাইসিস রোগীর বল অংশটি ফাইসিস এর উপর থেকে পিছলে যায়। এটি কখনো কখনো হঠাৎ করে হয় কোনো আঘাতের পরে। তবে বেশীর ভাগ সময়ই আঘাতের সাথে কোন সম্পর্ক থাকে না ।

সাধারণত SCFE কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
১। স্থিতিশীল SCFE:
এই রোগে বাচ্চারা হাটু অথবা হিপ এলাকায় ব্যথার কথা বলে এবং বাচ্চা বাইরের দিকে পা দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হয়। ব্যথা সবসময় থাকে না এবং , নড়াচরার সাথে সাথে বাড়ে , বিশ্রাম নিলে ভালো হয়ে যায়। এই রোগে বাচ্চারা কোন কিছুর সাহায্যে হাঁটতে পারে ।
২। অস্থিতিশীল SCFE:
এই রোগে হিপ জয়েন্ট এর বল অংশটি আরো বেশি নড়ে যায় এবং ব্যথা সাধারণত অনেক বেশি হয়। হাঁটতে পারে না ব্যথার কারনে। অস্থিতিশীল SCFE,  হিপ জয়েন্টর রক্তপ্রবাহ কে বন্ধ করে দিতে পারে অথবা সীমাবদ্ধ করতে পারে। যে কারনে হিপ এর বল অংশটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
কখনো কখনো স্লিপড ক্যাপিটাল ফিমোরাল এপিফাইসিস রোগে অস্বাভাবিক ব্যথা হয় হিপ জয়েন্টে যা হাঁটুর জয়েন্টেও অনুভূত হয়। যদিও রোগটি যেকোন একটি হিপে শুরু হয় তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি অন্য হিপকেও আক্রান্ত করতে পারে। এই জন্য অনেক সময় শিশু অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞগন একই সাথে উভয় হিপ জয়েন্টের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

SCFE তে আক্রান্ত বাচ্চাদের হিপ জয়েন্টের বিভিন্ন পর্যায়।

SCFE তে আক্রান্ত বাচ্চার অপারেশনের আগে ও পরের ছবি।

SCFE  রোগের কারণ নিশ্চিত করে বলা যায় না তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ১১ থেকে ১৬ বছরের বাচ্চাদের মধ্যে তা বেশি পরিলক্ষিত হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায় তবে মেয়েরাও আক্রান্ত হতে পারে।
যে সকল কারনে এই রোগে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে তারা হল
১। স্থুলতা (অতিরিক্ত ওজন ফাইসিস এর উপরে চাপ বাঁড়ায়।
২। ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ডিজিজ বা বৃদ্ধি হরমোনজনিত সমস্যা
৩। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন।
৪। কিডনি রোগের মতো রোগ
৫। ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা যা হলো কেমোথেরাপি
৬। এই রোগ যদি পরিবারের অন্য সদস্যদের কারো থাকে।

রোগ নির্ণয়ঃ
এই রোগ সন্দেহ করলে শিশু অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ বাচ্চার পুরোপুরি শারীরিক পরীক্ষা করেন এবং পরবর্তীতে এক্স-রের মাধ্যমে তা নির্ণয় করেন । অনেক ক্ষেত্রে রোগের প্রকৃতি সম্পর্কে ভালভাবে বোঝার জন্য এম. আর. আই (MRI) করার প্রয়োজন হতে পারে ।

রোগের চিকিৎসা:
যদি এই রোগ প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে তবে চিকিৎসক আক্রান্ত শিশুকে পায়ে ভর না দিতে, বিশ্রামে থাকতে এবং ক্র্যাচ বা বগল লাঠির ব্যবহারকে উৎসাহিত করেন। যদি এতে কাজ না হয় অথবা রোগ যদি প্রাথমিক অবস্থায় ধরা না পড়ে অ্যাডভান্স অবস্থায় ধরা পড়ে তবে অপারেশনের প্রয়োজন হয়। এই অপারেশন করার সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অ্যানেসথেসিয়ার মাধ্যমে এবং C-ARM মেশিন ব্যবহার করে একটি screw এর মাধ্যমে বল জয়েন্টটিকে স্থিতিশীল করেন ।


অপারেশন এরপর আনুমানিক ৪ সপ্তাহ পর থেকে রোগী পায়ে অল্প অল্প করে ভর দিতে পারে।
সঠিক সময়ে এই রোগের চিকিৎসা না করলে পরবর্তীতে আর্থাইটিস রোগের সম্ভাবনা থাকে, দুই পায়ে দৈর্ঘ্যের পার্থক্য হতে পারে, Avascular Necrosis ( যেখানে হাড়ের কিছু অংশে রক্ত সরবরাহ কমে যেয়ে মারা যায়) রোগে হতে পারে।

স্লিপড ক্যাপিটাল ফিমোরাল এপিফাইসিস (SCFE) একটি গুরুতর রোগ। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা করতে পারলে সাফল্যের সম্ভাবনা ভালো থাকে। তাই বাচ্চারা হিপ অথবা হাঁটুর কাছে ব্যথার কথা বললে অথবা হাঁটতে অসুবিধা হলে দ্রুত শিশু অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *