পা ভিতরের দিকে বেঁকে থাকা (Genu Varum)

Dr. Tariqul Alam Noman

পায়ের স্বাভাবিক বক্রতা  (Physiologic Bowing)

জন্মের সময় শিশুর পা স্বাভাবিক নিয়মেই হাঁটু থেকে ১০-১৫ ডিগ্রী পরিমান ভিতরের দিকে বেঁকে থাকে। পূর্ব থেকেই বিদ্যমান পায়ের ভিতরের দিকের এই বক্রতা সাধারনত বাচ্চা দাঁড়ানো বা হাঁটা শেখার সময় অন্যদের দৃষ্টিগোচর হয়। ১৪-১৮ মাস বয়সে শিশুর পায়ের ভিতরের দিকের বক্রতার পরিমান কমে সাধারনত ০ ডিগ্রী তে চলে আসে, অর্থাৎ ২ পা পুরোপুরি সোজা অবস্থায় থাকে। ৩-৪ বছর বয়সে শিশুর পা হাঁটু থেকে স্বাভাবিক নিয়মে আবার বাইরের দিকে বাঁকতে থাকে। ৭ বছর বয়সে বাইরের দিকের বক্রতা কমে সামান্য বাইরের দিকে বেঁকে থাকে। এই বয়সের পর  স্বাভাবিক নিয়মে পায়ের বক্রতার তেমন কোন পরিবর্তন হয় না।

১৮ মাস বয়সের পরে যদি শিশুর ২ পা ১০ ডিগ্রী পর্যন্ত ভিতরের দিকে বেঁকে থাকে (এক্সরে তে দৃশ্যমান হতে হবে) এবং এই বক্রতার বিস্তৃতি উরু এবং পা উভয়ের হাঁড়কে জড়িত করে – তবে তাকে Physiologic Genu Varum (স্বাভাবিক পায়ের ভিতরের দিকে বক্রতা) হিসেবে গন্য করা হয়। 

২ বছর বয়সের পর শিশুর পা হাঁটু থেকে বাইরের দিকে বেঁকে থাকলে তাকে অস্বাভাবিক বা রোগ হিসেবে গন্য করতে হবে। 

২ পায়ের বক্রতার সামঞ্জস্যতা একটি প্রাকৃতিক অনুমান যোগ্য নিয়ম মেনে চলে। 

জন্মের পর শিশুর ২ পা ১০-১৫ ডিগ্রী ভিতরে বেঁকে থাকে।
১৪-১৮ মাস বয়সে শিশুর ২ পা সোজা অবস্থানে থাকে।
৩-৪ বছর বয়সে ২ পায়ের বক্রতা বাইরের দিকে দৃশ্যমান হয়।
৭ বছর বয়সের পরে ২ পা সামান্য পরিমান বাইরের দিকে বেঁকে থাকে।

শিশুর পা ভেতরের দিকে বেঁকে থাকার কারণ সমূহঃ

  • স্বাভাবিক নিয়মে ২ বছর পর্যন্ত পা ভিতরের দিকে বাঁকা থাকতে পারে
  •  আঘাত / সংক্রমন জনিত কারণে হাটুর ২ পাশের Growth plate ক্ষতিগ্রস্থ হলে
  • রিকেট্স
  • ব্লাউন্ট ডিজিজ
  •  একন্ড্রপ্লাসিয়া
  • কর্কট রোগ ইত্যাদি

পা ভিতরের দিকে বেঁকে থাকা রোগীদের শারীরিক সমস্যা / উপসর্গসমূহঃ

  • অনেকক্ষেত্রেই বিশেষত ২ বছরের কম বয়সী রোগীরা উপসর্গবিহীন থাকে
  • অনেক শিশু পা ভিতরের দিকে ঘুরিয়ে (In-toeing) হাঁটে
  • পায়ের বক্রতা সত্তেও এই রোগে আক্রান্ত শিশুরা বেশ চটপটে ভাবে হাঁটে অনেকে হাঁটুর বাইরের দিকে ঠেলা দিয়ে হাটে। Lateral Thrust)

পায়ের বক্রতা পরিমাপের পদ্ধতি সমূহঃ

১। সরাসরি শিশুর শরীরেঃ

দুই পায়ের গোঁড়ালী একত্রে স্পর্শ করে দুই পায়ের পাতার উপর শিশু দাড়াবে। দুই হাঁটুর মালাইচাকি (Patella) এই সময় সরাসরি সম্মুখদিকে অবস্থান করবে। Goniometer নামক যন্ত্র দিয়ে পা হাঁটু থেকে কত ডিগ্রী ভিতরের দিকে বেঁকে থাকে তা পরিমাপকরতে হবে। এই সময় ফিতা দিয়ে দুই হাঁটুর মধ্যবর্তী দূরত্ব ও মাপা হয়।

২। এক্সরে পরীক্ষার মাধ্যমেঃ

এক্সরে করার মাধ্যমে পা কত ডিগ্রী ভিতরের দিকে বেঁকে আছে তার পরিমান নির্ণয় করা যায়। সাথে সাথে যদি পায়ের এই বক্রতার সাথে কোন সুনিদিষ্ট কারণ (যেমনঃ রিকেট্স, একন্ডপ্লাসিয়া, গ্রোথ প্লেটের সমস্যা ইত্যাদি) জড়িত থাকলে তা জানা যায়।

ভিতরের দিকে বেঁকে থাকা পায়ের চিকিৎসাঃ

১। ব্রেস / অর্থোসিস ব্যবহারঃ

  • ১৮ মাসের উপরের শিশু, বিশেষত যাদের Blount disease এর সম্ভাবনা রয়েছে
  • ৩ বছরের নীচে সকল শিশু, বিশেষত যাদের ১ পায়ের সমস্যা রয়েছে

২। অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসাঃ

  • ৩ বছরের অধিক বয়সী শিশু
  • ২ পা আক্রান্ত শিশু
  • অস্বাভাবিক মোটা শিশু
  • ব্রেস ব্যবহার করে উন্নতি হচ্ছে না – এমন শিশু

কি কি অপারেশন করা হয়ঃ

  • অস্থায়ী ইপিফাইসিওডেসিস (এইট প্লেট এর মাধ্যমে)
  • টিবিয়ার উপরের প্রান্তে সংশোধনমূলক অস্টিওটমি।

৩। যদি কোন কারণ পায়ের ভেতরের দিকে বেঁকে থাকার কারণ হিসেবে জানা যায়, তার সুনিদিষ্ট চিকিৎসা সাথে সাথে করা লাগবে।

 

আমাদের আর কি জানা উচিৎ ?

অভিভাবকগণের আশ্বস্ত হওয়া উচিৎ যে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই পায়ের ভিতরের দিকে বেঁকে যাওয়া রোগ এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তবে শিশুর বয়স দুই বছরের অধিক হবার পরেও যদি তা ভালো না হয়- তবে এর কারণ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হওয়া উচিৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *